সত্যিকারের ভালবাসার কাহিনী,,
......সত্যিকারের ভালবাসার কাহিনী,,,
এই তুমি এই মাসের টাকা দিছো?
-নাহ,একমাস না দিলে হয়না?
-নাহ,হয়না.কালকেই দিবা.
-তিন বছর ধরেই তো নিচ্ছো,একটা মাস নিও না..
-আরিফ আমি একটা জিনিস খেয়াল করেছি তুমি ইদানীং আমার মুখে মুখে কথা বলো!!
-মুখে মুখে আর কই বললাম,মুখে মুখে বললে তো অন্য কিছুই হতো!!
-কি বলছো তুমি?! আবার বলো তো?তুমি এত্ত সাহস কই পাও ইদানীং?
-কই পাবো আর?সারাজীবন বিড়াল হয়ে থাকবো নাকি?
-কি বললি?তোর সাহস দেখে অবাক হচ্ছি,আমার মুখে মুখে কথা বলিস?থাক তুই,গেলাম আমি.একদম আমার সাথে যোগাযোগ করবিনা আর.
অতঃপর মীম রাগে হনহন করে হেটে চলে গেলো.আরিফ বসে বসে হাসতে লাগলো,আরিফ মাঝে মাঝেই মীমকে রাগিয়ে দেয়,আর মীম রেগে গেলে পুরান ঢাকার ভাষায় তুইতোকারি করে কথা বলে,আরিফ পুরান ঢাকার ভাষা শুনে হেসে দেয়,তা দেখে মীম আরো রেগে উঠে চলে যায়.
প্রতি মাসে মীম আরিফের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেয়,সেই প্রেম শুরুর দিক থেকে.কেন নেয় যদিও আরিফ জানেনা,অনেক বার জিগ্যেস করেছিলো মীমকে,মীম প্রতিবারই বলে প্রেম করছো পাও নাকি? আজকাল ছেলেদের বিশ্বাস নেই,টাকা হলো সিকিউরিটি.
পলাশী মোড়ের ফুটপাত থেকে উঠে দাঁড়ায় আরিফ,হেটে হেটে বাসার দিকে আসতে আসতে ভাবতে লাগলো মীমের সাথে প্রেম হওয়ার শুরুর দিকের কথা.
তখন আমি নিউমার্কেট এরিয়াতে একটা কম্পানিতে মার্কেটিং লেভেলে জব করতাম.বিকেলের পর ফ্রি থাকতাম বলে,সন্ধার পর মামার দোকানে
-নাহ,একমাস না দিলে হয়না?
-নাহ,হয়না.কালকেই দিবা.
-তিন বছর ধরেই তো নিচ্ছো,একটা মাস নিও না..
-আরিফ আমি একটা জিনিস খেয়াল করেছি তুমি ইদানীং আমার মুখে মুখে কথা বলো!!
-মুখে মুখে আর কই বললাম,মুখে মুখে বললে তো অন্য কিছুই হতো!!
-কি বলছো তুমি?! আবার বলো তো?তুমি এত্ত সাহস কই পাও ইদানীং?
-কই পাবো আর?সারাজীবন বিড়াল হয়ে থাকবো নাকি?
-কি বললি?তোর সাহস দেখে অবাক হচ্ছি,আমার মুখে মুখে কথা বলিস?থাক তুই,গেলাম আমি.একদম আমার সাথে যোগাযোগ করবিনা আর.
অতঃপর মীম রাগে হনহন করে হেটে চলে গেলো.আরিফ বসে বসে হাসতে লাগলো,আরিফ মাঝে মাঝেই মীমকে রাগিয়ে দেয়,আর মীম রেগে গেলে পুরান ঢাকার ভাষায় তুইতোকারি করে কথা বলে,আরিফ পুরান ঢাকার ভাষা শুনে হেসে দেয়,তা দেখে মীম আরো রেগে উঠে চলে যায়.
প্রতি মাসে মীম আরিফের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেয়,সেই প্রেম শুরুর দিক থেকে.কেন নেয় যদিও আরিফ জানেনা,অনেক বার জিগ্যেস করেছিলো মীমকে,মীম প্রতিবারই বলে প্রেম করছো পাও নাকি? আজকাল ছেলেদের বিশ্বাস নেই,টাকা হলো সিকিউরিটি.
পলাশী মোড়ের ফুটপাত থেকে উঠে দাঁড়ায় আরিফ,হেটে হেটে বাসার দিকে আসতে আসতে ভাবতে লাগলো মীমের সাথে প্রেম হওয়ার শুরুর দিকের কথা.
তখন আমি নিউমার্কেট এরিয়াতে একটা কম্পানিতে মার্কেটিং লেভেলে জব করতাম.বিকেলের পর ফ্রি থাকতাম বলে,সন্ধার পর মামার দোকানে
বসতাম.নিউমার্কেটে মামার দোকান আছে,দোকানের বেশীরভাগ আইটেম গুলো মেয়েদের.এই যেমন শাড়ি -থ্রি পিস এইগুলো.মীমের সাথে পরিচয় এইখানেই.একদিন মীম আর মীমের বান্ধবী দোকানে আসছিলো থ্রি-পিস কিনতে,সেদিনই মীমের সাথে পরিচয় হয়েছিলো.সেদিন অবশ্য কথা বলে এটা কখনো মনে হয়নি,এই মেয়ে একদিন আমার প্রেমিকা হবে.মীমের বান্ধবী একটা থ্রি-পিস নিয়েছিলো,মীমকে লক্ষ করেছিলাম একটা থ্রি -পিসের দিকে বার বার তাকাচ্ছিলো,মূল্য জিগ্যেস করে বান্ধবীর দিকে তাকিয়ে বলল কিছু শর্ট আছে হয়না.ওর বান্ধবী আমার কাছে এসে বলল ভাইয়া তিনশো কম আছে,কালকে এসে দিয়ে গেলে হবেনা?
আমার এমনিতেই মীমকে প্রথম থেকেই অন্যরকম ভালো লাগছিলো,আমি একটা হাসি দিয়ে বললাম সমস্য নেই,আপনার বান্ধবীকে নিতে বলেন.
যাওয়ার আগে মীম আমার থেকে আমার মোবাইল নাম্বার নিয়ে যায়.
পরের দিন না আসলেও এর দুইদিন পরে ঠিকই এসেছিলো,টাকা দিয়ে বলল,আমি মনে করেছি আপনি দিবেন না.আসলে কেউ এইরকম ভাবে বিশ্বাস করে না.আমি হেসে বলল,কিছু মানুষের মুখের দিকে তাকালেই বুঝা যায় সে কেমন.আমার সাথে এককাপ কফি খাওয়া যায়?
মীম হেসে বলল কেন নয় চলুন.
সেদিন মীমের সম্পর্কে জেনেছিলাম,মীমদের বাসা পুরান ঢাকায়,আর ও ঢাবি তে পড়ে.
ঢাবি পড়ে শুনার পর আমার মুখ চুপসে গেলো,আসলে ঢাবির মেয়ে গুলো সুন্দর হয়,কিন্তু অনেক ডেঞ্জারাসও হয়.মীমও দেখতে তার ব্যাতীক্রম নয়.ওর সবচেয়ে সুন্দর হাসিটা.এই হাসির দিকে তাকিয়ে যে কেউ পৃথিবীর সব ভুলে থাকতে পারবে.
সেদিন পর থেকে মাঝে মাঝে মীম মামার দোকানে আসতো,যদিও আাসার আগে আমাকে ফোন দিয়ে জিগ্যেস করতো আমি আছি কিনা,দোকানে আসার পর বলত,নীলক্ষেতে আসছিলাম একটা বই কিনতে,ভাবলাম আপনার সাথে দেখা করে যাই.আমি বলতাম আমার সৌভাগ্য.
আমার এমনিতেই মীমকে প্রথম থেকেই অন্যরকম ভালো লাগছিলো,আমি একটা হাসি দিয়ে বললাম সমস্য নেই,আপনার বান্ধবীকে নিতে বলেন.
যাওয়ার আগে মীম আমার থেকে আমার মোবাইল নাম্বার নিয়ে যায়.
পরের দিন না আসলেও এর দুইদিন পরে ঠিকই এসেছিলো,টাকা দিয়ে বলল,আমি মনে করেছি আপনি দিবেন না.আসলে কেউ এইরকম ভাবে বিশ্বাস করে না.আমি হেসে বলল,কিছু মানুষের মুখের দিকে তাকালেই বুঝা যায় সে কেমন.আমার সাথে এককাপ কফি খাওয়া যায়?
মীম হেসে বলল কেন নয় চলুন.
সেদিন মীমের সম্পর্কে জেনেছিলাম,মীমদের বাসা পুরান ঢাকায়,আর ও ঢাবি তে পড়ে.
ঢাবি পড়ে শুনার পর আমার মুখ চুপসে গেলো,আসলে ঢাবির মেয়ে গুলো সুন্দর হয়,কিন্তু অনেক ডেঞ্জারাসও হয়.মীমও দেখতে তার ব্যাতীক্রম নয়.ওর সবচেয়ে সুন্দর হাসিটা.এই হাসির দিকে তাকিয়ে যে কেউ পৃথিবীর সব ভুলে থাকতে পারবে.
সেদিন পর থেকে মাঝে মাঝে মীম মামার দোকানে আসতো,যদিও আাসার আগে আমাকে ফোন দিয়ে জিগ্যেস করতো আমি আছি কিনা,দোকানে আসার পর বলত,নীলক্ষেতে আসছিলাম একটা বই কিনতে,ভাবলাম আপনার সাথে দেখা করে যাই.আমি বলতাম আমার সৌভাগ্য.
আমার ছুটির দিন গুলোতে মীমের সাথে ঘুরতে যেতাম,বিশেষ করে বিকেলের পরে বের হতাম,ধানমন্ডি লেকে অথবা টিএসসিতে ঘুরাঘুরি করতাম.আমার কাছে সবচেয়ে অবাক লাগতো মীমের আচরণ, আমি আসলে কোনো দিক থেকে মীমের যোগ্য ছিলাম না,তবে ওর কথা শুনে মনে হতো হয়তো আমাকে পছন্দ করে.আবার আমার ধারণা ভুলও হতে পারে,আমার মত একটা ছেলেকে ও কেন ভালেবাসবে!! বন্ধুত্ব করেছে সেটাইতো অনেক বেশি.
তবে আমার ধারণা ভুলে প্রমান করে এর দুমাস পরেই মীম আমাকে প্রপোজ করে,একটা মেয়ে একটা ছেলেকে প্রপোজ করতে সেই প্রথম দেখেছি.আসলে আমার ওকে ফিরিয়ে দেওয়ার সাধ্য ছিলো না,আমার কেনো,কোন ছেলেরই সম্ভব ছিলো না.আমি শুধু বলেছিলাম তুমি ভেবে বলছো তো?আমার মধ্যে এমন কিছুই নেই যা দিয়ে আমি তোমাকে ইমপ্রেসড করবো.
ও হেসে বলল তুমি যা আছো আমি তাই ভালোবাসি,শুধু কথা দিতে হবে আমাকে বিশ্বাস করবে,কখনো ভুল বুঝতে পারবেনা.
আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে.সেই শুরু আমাদের পথ চলা,এই কয়বছর রাগ অভিমান ভালোবাসায় কেটেছে.মীমের একটা প্রবলেম ছিলো,ও অল্পতেই রেগে যেত.অবশ্য আমার জীবনকে সাজিয়েছে এই মেয়েটা.
একটা সময় ছিলো যখন আমি আমার ফিউচার নিয়ে একদমই ভাবতাম না.আমাদের সম্পর্কের পরও না,মীম আামাকে অনেক বুঝাতো,সাহস দিতো.একটা সময় মীমের কারনেই চাকরী ছেড়ে দেই.ও বলল বিজনেস করো.আমি বললাম এত অল্প পুজিতে ব্যাবসা হয়না.
তবে আমার ধারণা ভুলে প্রমান করে এর দুমাস পরেই মীম আমাকে প্রপোজ করে,একটা মেয়ে একটা ছেলেকে প্রপোজ করতে সেই প্রথম দেখেছি.আসলে আমার ওকে ফিরিয়ে দেওয়ার সাধ্য ছিলো না,আমার কেনো,কোন ছেলেরই সম্ভব ছিলো না.আমি শুধু বলেছিলাম তুমি ভেবে বলছো তো?আমার মধ্যে এমন কিছুই নেই যা দিয়ে আমি তোমাকে ইমপ্রেসড করবো.
ও হেসে বলল তুমি যা আছো আমি তাই ভালোবাসি,শুধু কথা দিতে হবে আমাকে বিশ্বাস করবে,কখনো ভুল বুঝতে পারবেনা.
আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে.সেই শুরু আমাদের পথ চলা,এই কয়বছর রাগ অভিমান ভালোবাসায় কেটেছে.মীমের একটা প্রবলেম ছিলো,ও অল্পতেই রেগে যেত.অবশ্য আমার জীবনকে সাজিয়েছে এই মেয়েটা.
একটা সময় ছিলো যখন আমি আমার ফিউচার নিয়ে একদমই ভাবতাম না.আমাদের সম্পর্কের পরও না,মীম আামাকে অনেক বুঝাতো,সাহস দিতো.একটা সময় মীমের কারনেই চাকরী ছেড়ে দেই.ও বলল বিজনেস করো.আমি বললাম এত অল্প পুজিতে ব্যাবসা হয়না.
-তুমি শুরু করেই দেখো,কেউ ধরেই বড় থেকে শুরু করে না.দরকার হলে মামার হেল্প নেও.
ওর কথায় যুক্তি ছিলো,মামার সাথে কথা বলে সব ঠিক করে আমিও ব্যাবসা শুরু করলাম.
আমার শুরুটা ছিলো অনেক ছোট.মালামাল যা লাগতো মামার থেকেই নিতাম,একা চালাতে পারবো না বলে গ্রাম থেকে চাচাতো ভাই রায়হান কি নিয়ে আসলাম.
আমার আর মীমের ব্যাপারটা মোটামুটি সবাই জানতো.চাচাতো ভাই তো সব সময় ভাবী বলেই ডাকতো.মীম মাঝে মাঝে দোকানে আসতো,আমার সাথে বসে থাকতো.আমি কোন মেয়ের সাথে পণ্য ব্যাতিতো অন্য কোন বিষয় কথা বললে চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকাতো.
মাঝে মাঝে আমাকে বলতো আমি তোমার প্রেমে পড়েছি এই কেনাকাটা করতে এসে,তুমি কোন মেয়ের সাথে তোমার দোকানের আইটেম প্রসঙ্গ ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে কথা বলবা না.খবরদার বলবে না.আমি যদি দেখি তোমাকে কি করবো নিজেও জানিনা.
সেই থেকে ভয়ে ভয়ে থাকি,একবার একটা মেয়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলছিলাম,সত্যি বলতে সবার সাথে সুন্দর করে কথা না বললে কিছুই কিনবেনা,হঠাৎ চাচাতো ভাই রায়হান বললো ভাইয়া ভাবী আসতেছে সরো,আমি দ্রুত সরে গেলাম,মীম এসে আমার পাশে বসলো,কিন্তু কিছুই বললো না,সবচেয়ে মজার বিষয় আমাদের কাণ্ডকারখানা ওই মেয়েটি অবাক হয়ে দেখছিলো.হয়তো এটাই ভাবছে একটা মেয়ের আসার সাথে আমরা দুজন বিড়ালের মত হয়ে গেলাম.আমি একটু লজ্জাও পেলাম.মেয়েটি যাওয়ার পর মীম বলল,আজকাল আমার অনুপস্থিতে এইসব করো?মেয়েটির সাথে হেসে হসে কি এমন কথা বলছিলো?
আমি ভাবলাম আর একটু রাগিয়ে দেই,আমি মুখ মলিন করে বললাম মেয়েটি বলল আমার হাসি সুন্দর তাই হাসতেছিলাম.
-কি তোমার হাসি সুন্দর? তোমার হাসি বিশ্রী, এই মুখ বন্ধ করো.আর কখনো তোমাকে যেন হাসতে না দেখি.আমি যখন আসবো তখন ৩২টা দাঁত বের শুধু হি হি করে হাসবা.আর মেয়েটিকেও বলি শপিং করতে আসছে নাকি ছেলেদের হাসি দেখতে এসেছে?যত্তসব ন্যাকামি,ছেলে দেখলেই ইয়ে.... হয়.মার্কেটে এত ছেলে থাকতে আমারটার কাছেই এসে বলতে হবে হাসি সুন্দর.
আমি ওর কথা শুনে হাসছিলাম,রায়হানও হাসছিলো কিন্তু মুখে হাত রেখে.যদি দেখে আমরা হাসছি তাহলে কপালে খারাপি আছে.
মাঝে মাঝে মীম এসে জোর করে ঘুরতে নিয়ে যেত,আমি বড়জোর পলাশী পর্যন্ত যেতে চাইতাম,টিএসসি যেতে চাইতাম না.টিএসসিতে ওর বন্ধুরা থাকে,আমার সবসময়ই মনে হতো আমি মীমের যোগ্য না,তাই ওর বন্ধুদের সামনে যেতে লজ্জা লাগতো.আমি যখন বলতাম টিএসসি যাবো না,তোমার বন্ধুরা থাকে ওইখানে,ও চোখ বড় করে বলে,প্রেম করতে তুমি বলছো নাকি আমি?
আমি বললাম তুমি.মীম বললো আমার যদি কোন প্রবলেম না হয় তাহলে তোমার কিসের প্রবলেম?তোমাকে কতদিন বলছি নিজেকে এইভাবে ছোট করে দেখবা না.আজ পর্যন্ত তোমাকে কেউ কিছু বলেছে?বললে আমি দেখবো,কার এতবড় সাহস হয় তোমাকে নিয়ে কিছু বলার.
ওর কথায় যুক্তি ছিলো,মামার সাথে কথা বলে সব ঠিক করে আমিও ব্যাবসা শুরু করলাম.
আমার শুরুটা ছিলো অনেক ছোট.মালামাল যা লাগতো মামার থেকেই নিতাম,একা চালাতে পারবো না বলে গ্রাম থেকে চাচাতো ভাই রায়হান কি নিয়ে আসলাম.
আমার আর মীমের ব্যাপারটা মোটামুটি সবাই জানতো.চাচাতো ভাই তো সব সময় ভাবী বলেই ডাকতো.মীম মাঝে মাঝে দোকানে আসতো,আমার সাথে বসে থাকতো.আমি কোন মেয়ের সাথে পণ্য ব্যাতিতো অন্য কোন বিষয় কথা বললে চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকাতো.
মাঝে মাঝে আমাকে বলতো আমি তোমার প্রেমে পড়েছি এই কেনাকাটা করতে এসে,তুমি কোন মেয়ের সাথে তোমার দোকানের আইটেম প্রসঙ্গ ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে কথা বলবা না.খবরদার বলবে না.আমি যদি দেখি তোমাকে কি করবো নিজেও জানিনা.
সেই থেকে ভয়ে ভয়ে থাকি,একবার একটা মেয়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলছিলাম,সত্যি বলতে সবার সাথে সুন্দর করে কথা না বললে কিছুই কিনবেনা,হঠাৎ চাচাতো ভাই রায়হান বললো ভাইয়া ভাবী আসতেছে সরো,আমি দ্রুত সরে গেলাম,মীম এসে আমার পাশে বসলো,কিন্তু কিছুই বললো না,সবচেয়ে মজার বিষয় আমাদের কাণ্ডকারখানা ওই মেয়েটি অবাক হয়ে দেখছিলো.হয়তো এটাই ভাবছে একটা মেয়ের আসার সাথে আমরা দুজন বিড়ালের মত হয়ে গেলাম.আমি একটু লজ্জাও পেলাম.মেয়েটি যাওয়ার পর মীম বলল,আজকাল আমার অনুপস্থিতে এইসব করো?মেয়েটির সাথে হেসে হসে কি এমন কথা বলছিলো?
আমি ভাবলাম আর একটু রাগিয়ে দেই,আমি মুখ মলিন করে বললাম মেয়েটি বলল আমার হাসি সুন্দর তাই হাসতেছিলাম.
-কি তোমার হাসি সুন্দর? তোমার হাসি বিশ্রী, এই মুখ বন্ধ করো.আর কখনো তোমাকে যেন হাসতে না দেখি.আমি যখন আসবো তখন ৩২টা দাঁত বের শুধু হি হি করে হাসবা.আর মেয়েটিকেও বলি শপিং করতে আসছে নাকি ছেলেদের হাসি দেখতে এসেছে?যত্তসব ন্যাকামি,ছেলে দেখলেই ইয়ে.... হয়.মার্কেটে এত ছেলে থাকতে আমারটার কাছেই এসে বলতে হবে হাসি সুন্দর.
আমি ওর কথা শুনে হাসছিলাম,রায়হানও হাসছিলো কিন্তু মুখে হাত রেখে.যদি দেখে আমরা হাসছি তাহলে কপালে খারাপি আছে.
মাঝে মাঝে মীম এসে জোর করে ঘুরতে নিয়ে যেত,আমি বড়জোর পলাশী পর্যন্ত যেতে চাইতাম,টিএসসি যেতে চাইতাম না.টিএসসিতে ওর বন্ধুরা থাকে,আমার সবসময়ই মনে হতো আমি মীমের যোগ্য না,তাই ওর বন্ধুদের সামনে যেতে লজ্জা লাগতো.আমি যখন বলতাম টিএসসি যাবো না,তোমার বন্ধুরা থাকে ওইখানে,ও চোখ বড় করে বলে,প্রেম করতে তুমি বলছো নাকি আমি?
আমি বললাম তুমি.মীম বললো আমার যদি কোন প্রবলেম না হয় তাহলে তোমার কিসের প্রবলেম?তোমাকে কতদিন বলছি নিজেকে এইভাবে ছোট করে দেখবা না.আজ পর্যন্ত তোমাকে কেউ কিছু বলেছে?বললে আমি দেখবো,কার এতবড় সাহস হয় তোমাকে নিয়ে কিছু বলার.
পিছনের কথা গুলো মনে পড়তেই হাসতে লাগলো আরিফ,এতদিনেও কেউ কাউকে ছেড়ে যাবার কথা বলেনি,বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে খেতে বসে আরিফ আর রায়হান.এই রান্নাটাও প্রায় সময় মীম এসে রেঁধে যায়.বুয়া রাখা যাবে না.বাড়তি খরচ বাড়িয়ে লাভ নেই.আমি আসলে কোনদিন চিন্তা করতে পারিনি মীম আমার সাথে থাকবে,প্রথম যখন প্রপোজ করেছিলো তখনো মনে হয়েছে আবেগে হয়তো করছে,কিছুদিন পর নিজ থেকে ব্রেকাপ করে চলে যাবে.কিন্তু যায়নি,উল্টো আমার জীবন পাল্টে দিছে.
এর মাসখানিক পরের কথা,সন্ধার পর হঠাৎ মীমের ফোন,আমি ফোন রিসিভ করতেই মীম বললো কই তুমি?আমি আসলে একজন মহিলাকে হেল্প করতে তার শপিং গুলো নিয়ে তাকে এগিয়ে দিতে এসেছি.মহিলা বললে ভুল হবে,আমার থেকে চার-পাঁচ বছরের বড় হবে হয়তো. মহিলা একা এসেছিলেন,আমাকে বলল একটু হেল্প করতে,তাই আমি ওনার সাথে এসেছি.এখন যদি মীমকে সত্যি বলি ও রাগারাগি করবে.তাই আমি বললাম এইতো কাছেই চা খেতে এসেছি.
মীম চিৎকার করে বলল তুই চা খেতে গিয়েছিস?কি ভাবছিস আমি কিছু দেখিনা?আমি না থাকলে তুই এইসব করিস?
আমি বললাম দেখো সত্যি বললে তুমি রাগ করবা তাই বলিনাই.ওনাকে হেল্প করতে আসছি জাস্ট. প্লিজ বিলিভ মি.
মীম আরো জোরে চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বললো তোর সব কথা বিশ্বাস করবো?তুই আমাকে ঠকিয়েছিস.আজ থেকে তোর সাথে আমার কিছু নেই.
এবার আমারও রাগ উঠে গেল,আমিও বললাম ওকে ফাইন যাও ধরে রেখেছে কে?
মীম লাইন কেটে দিলো,আমিও দোকানে চলে এলাম.
চারদিন মীমের সাথে কোনপ্রকার যোগাযোগ নেই,আমারও জীদ চেপে গিয়েছিলো,আমিও যোগাযোগ করিনি.সকালে রায়হান বললো কোথায় যেন যাবে,সেই সকালে গিয়েছে আর আসার নাম নেই.
বিকেলে দোকানে কাজ করছিলাম,তখন হঠাৎ মীম আসলো,আমি অবাক হলাম,কিন্তু কথা বললাম না.দেখেও অন্য দিকে তাকিয়ে রইলাম.মীম আমার কাছে এসে আমার মুখটা ওর দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বলল এখনো রেগে আছো?
-নাহ রাগ করার কি আছে!!
-স্যরি,আমি বুঝতে পারিনি.আসলে তোমাকে অন্য কোন মেয়ের সাথে দেখলে মাথা ঠিক থাকেনা.
-তুমি আমার সাথে প্রেম না করলেই পারতে.
-আবার রাগ উঠাচ্ছো,কিন্তু আজ রাগবো না.এই উঠো,আমার সাথে চলো.
-কোথায় যাবো?দোকানে কেউ নেই.
-কে বললো নেই!ওই যে রায়হান আসছে.
তাকিয়ে দেখি রায়হান মিট মিট করে হাসছে,এখন বুঝছি ফাজিলটা সকাল থেকে কোথায় ছিলো.
মীম আমাকে টেনে নিয়ে গেলো কাজী অফিস,আগে থেকেই ওর কিছু বন্ধু ছিলো ওখানে.আমি শুধু একবার বললাম তোমার ফ্যামিলি?
ও বললো সেইটা তোমাকে ভাবতে হবেনা.
বিয়ের পর মীম বললো বাসায় নিয়ে চলো,এখন থেকে তোমার সাথে থাকবো.
বাসায় যখন গেলাম,গিয়ে দেখি রায়হান অনেক সুন্দর করে রুম সাজিয়েছে,আমি মীমকে জিগ্যেস করলাম সকাল থেকে দুজন এই প্লান করেছো তাই না?মীম কিছু বললো না শুধু হাসলো.সারারাত ও আমার বুকে মাথা রেখে আঙ্গুল দিয়ে খালি বুকে হাবিজাবি একেঁ দিচ্ছিলো,আমি বললাম লাগছে..
মীম বললো এইটুকুতেই ব্যাথা পাচ্ছো,এখন থেকে খামচি দিবো,কামড়ও দিতে পারি সব সহ্য করতে হবে.আমি কিছু বললাম না,পাগলিদের ভালোবাসা নিয়ে কিছু বলতে নেই.ও আমার পাগলি, যে আমাকে অন্ধের মত ভালোবাসে।
বিয়ের চারমাস পার হয়ে গেলো,এর মধ্যে সবচেয়ে মজার ঘটনা হলো,আমার ছোট ব্যাবসাকে বড় করতে মীম একলক্ষ টাকা দিয়েছে,টাকা যখন দিচ্ছিলো আমি অবাক হয়ে জিগ্যেস করলাম তুমি এতো টাকা কোথায় পেয়েছো?
-ও হেসে বলল তোমার থেকে যে টাকা গুলো নিয়েছি সেই গুলো দিয়ে কি আরো তিন চারটা প্রেম করেছি নাকি?এইগুলো তোমারই টাকা.
আমি এতটাই খুশি হয়েছিলাম যে, যা বলার মত না.
বিয়ের পর এখন পর্যন্ত আমি মীমকে কিছুই দিতে পারিনি,নিজের কাছেই লজ্জা লাগতো,রাতে বাসায় ফিরে ওর সাথে কথা কম বলতাম,যদি কিছু দেইনি কেন অভিযোগ করে.আমার পরিবর্তনটাই হয়তো মীম খেয়াল করেছে.রাতে যখন ঘুমোতে গেলাম মীম বললো তোমার কি হয়েছে?
-কই কিছুতো হয়নি.
-তুমি আমার থেকে লুকাচ্ছো?
-আসলে তোমাকে আমার বিয়ে করা উচিত হয়নি.বিয়ের পর তোমাকে কিছুতেই দিতে পারিনি.
মীম হাত দিয়ে আমার ঠোট চেপে ধরে বলল,মুখটা সেলাই করে দিবো এমন কথা বললে.ও আরো আমার কাছে এসে কপালে একটা চুমু খেলো.তারপর বুকে মাথা রেখে চুলে বুলি কাটতে কাটতে বলল,এই যে এই সুখটা তুমি অন্য কিছু দিয়ে এনে দিতে পারবে?আমার কিছুই চাইনা,শুধু এই ভালোবাসা টুকু হলেই চলবে.
আমি মনে মনে ভাবলাম,কিছু ভালোবাসা স্বার্থহীন হয়,
আসলেই হয়,
সত্যিই হয়.
বিঃদ্রঃ কবিতা আর গল্প নামের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়াi
এর মাসখানিক পরের কথা,সন্ধার পর হঠাৎ মীমের ফোন,আমি ফোন রিসিভ করতেই মীম বললো কই তুমি?আমি আসলে একজন মহিলাকে হেল্প করতে তার শপিং গুলো নিয়ে তাকে এগিয়ে দিতে এসেছি.মহিলা বললে ভুল হবে,আমার থেকে চার-পাঁচ বছরের বড় হবে হয়তো. মহিলা একা এসেছিলেন,আমাকে বলল একটু হেল্প করতে,তাই আমি ওনার সাথে এসেছি.এখন যদি মীমকে সত্যি বলি ও রাগারাগি করবে.তাই আমি বললাম এইতো কাছেই চা খেতে এসেছি.
মীম চিৎকার করে বলল তুই চা খেতে গিয়েছিস?কি ভাবছিস আমি কিছু দেখিনা?আমি না থাকলে তুই এইসব করিস?
আমি বললাম দেখো সত্যি বললে তুমি রাগ করবা তাই বলিনাই.ওনাকে হেল্প করতে আসছি জাস্ট. প্লিজ বিলিভ মি.
মীম আরো জোরে চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বললো তোর সব কথা বিশ্বাস করবো?তুই আমাকে ঠকিয়েছিস.আজ থেকে তোর সাথে আমার কিছু নেই.
এবার আমারও রাগ উঠে গেল,আমিও বললাম ওকে ফাইন যাও ধরে রেখেছে কে?
মীম লাইন কেটে দিলো,আমিও দোকানে চলে এলাম.
চারদিন মীমের সাথে কোনপ্রকার যোগাযোগ নেই,আমারও জীদ চেপে গিয়েছিলো,আমিও যোগাযোগ করিনি.সকালে রায়হান বললো কোথায় যেন যাবে,সেই সকালে গিয়েছে আর আসার নাম নেই.
বিকেলে দোকানে কাজ করছিলাম,তখন হঠাৎ মীম আসলো,আমি অবাক হলাম,কিন্তু কথা বললাম না.দেখেও অন্য দিকে তাকিয়ে রইলাম.মীম আমার কাছে এসে আমার মুখটা ওর দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বলল এখনো রেগে আছো?
-নাহ রাগ করার কি আছে!!
-স্যরি,আমি বুঝতে পারিনি.আসলে তোমাকে অন্য কোন মেয়ের সাথে দেখলে মাথা ঠিক থাকেনা.
-তুমি আমার সাথে প্রেম না করলেই পারতে.
-আবার রাগ উঠাচ্ছো,কিন্তু আজ রাগবো না.এই উঠো,আমার সাথে চলো.
-কোথায় যাবো?দোকানে কেউ নেই.
-কে বললো নেই!ওই যে রায়হান আসছে.
তাকিয়ে দেখি রায়হান মিট মিট করে হাসছে,এখন বুঝছি ফাজিলটা সকাল থেকে কোথায় ছিলো.
মীম আমাকে টেনে নিয়ে গেলো কাজী অফিস,আগে থেকেই ওর কিছু বন্ধু ছিলো ওখানে.আমি শুধু একবার বললাম তোমার ফ্যামিলি?
ও বললো সেইটা তোমাকে ভাবতে হবেনা.
বিয়ের পর মীম বললো বাসায় নিয়ে চলো,এখন থেকে তোমার সাথে থাকবো.
বাসায় যখন গেলাম,গিয়ে দেখি রায়হান অনেক সুন্দর করে রুম সাজিয়েছে,আমি মীমকে জিগ্যেস করলাম সকাল থেকে দুজন এই প্লান করেছো তাই না?মীম কিছু বললো না শুধু হাসলো.সারারাত ও আমার বুকে মাথা রেখে আঙ্গুল দিয়ে খালি বুকে হাবিজাবি একেঁ দিচ্ছিলো,আমি বললাম লাগছে..
মীম বললো এইটুকুতেই ব্যাথা পাচ্ছো,এখন থেকে খামচি দিবো,কামড়ও দিতে পারি সব সহ্য করতে হবে.আমি কিছু বললাম না,পাগলিদের ভালোবাসা নিয়ে কিছু বলতে নেই.ও আমার পাগলি, যে আমাকে অন্ধের মত ভালোবাসে।
বিয়ের চারমাস পার হয়ে গেলো,এর মধ্যে সবচেয়ে মজার ঘটনা হলো,আমার ছোট ব্যাবসাকে বড় করতে মীম একলক্ষ টাকা দিয়েছে,টাকা যখন দিচ্ছিলো আমি অবাক হয়ে জিগ্যেস করলাম তুমি এতো টাকা কোথায় পেয়েছো?
-ও হেসে বলল তোমার থেকে যে টাকা গুলো নিয়েছি সেই গুলো দিয়ে কি আরো তিন চারটা প্রেম করেছি নাকি?এইগুলো তোমারই টাকা.
আমি এতটাই খুশি হয়েছিলাম যে, যা বলার মত না.
বিয়ের পর এখন পর্যন্ত আমি মীমকে কিছুই দিতে পারিনি,নিজের কাছেই লজ্জা লাগতো,রাতে বাসায় ফিরে ওর সাথে কথা কম বলতাম,যদি কিছু দেইনি কেন অভিযোগ করে.আমার পরিবর্তনটাই হয়তো মীম খেয়াল করেছে.রাতে যখন ঘুমোতে গেলাম মীম বললো তোমার কি হয়েছে?
-কই কিছুতো হয়নি.
-তুমি আমার থেকে লুকাচ্ছো?
-আসলে তোমাকে আমার বিয়ে করা উচিত হয়নি.বিয়ের পর তোমাকে কিছুতেই দিতে পারিনি.
মীম হাত দিয়ে আমার ঠোট চেপে ধরে বলল,মুখটা সেলাই করে দিবো এমন কথা বললে.ও আরো আমার কাছে এসে কপালে একটা চুমু খেলো.তারপর বুকে মাথা রেখে চুলে বুলি কাটতে কাটতে বলল,এই যে এই সুখটা তুমি অন্য কিছু দিয়ে এনে দিতে পারবে?আমার কিছুই চাইনা,শুধু এই ভালোবাসা টুকু হলেই চলবে.
আমি মনে মনে ভাবলাম,কিছু ভালোবাসা স্বার্থহীন হয়,
আসলেই হয়,
সত্যিই হয়.
বিঃদ্রঃ কবিতা আর গল্প নামের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়াi
No comments